জনপ্রিয় যাত্রা শিল্পী ত্রিদিব ঘোষের মৃত্যুতে যাত্রা জগতের পাশাপাশি যাত্রা প্রেমীদের মধ্যেও শোকের ছায়া

0

পাপিয়া দাস ::: 29.06.2020 সোমবার ভোরে তার যাদবপুরের বাড়িতেই মৃত্যু হয়েছে কিংবদন্তি যাত্রা শিল্পীর। নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন যাত্রাভিনেতা ত্রিদিব ঘোষ, মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল 67 বছর। বিভিন্ন যাত্রা পালাতে তিনি খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন ত্রিদিববাবুর জন্ম ১৯৫৩ সালে। শরীরে লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়ায় ভুগছিলেন।তাকে শেষ অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল ‘উলঙ্গ সম্রাট’ যাত্রাতে।  বিশিষ্ট প্রযোজক গৌতম নন্দীর যাত্রাদল ‘‌নন্দী কোম্পানি’‌র হয়ে গত মরশুমে ত্রিদিববাবুর শেষ যাত্রামঞ্চে নামা। পালা ছিল ‘‌উলঙ্গ সম্রাট’‌। শারীরিক অসুস্থতার জন্য অবশ্য মরশুমের মাঝপথে অবসর নিতে বাধ্য হন ত্রিদিববাবু। লকডাউনের আগেই যাত্রা রিহার্সাল বন্ধ ছিল। প্রতি বছরের নিয়ম অনুযায়ী রথের পুণ্য তিথিতে বছরের যাত্রার সময় শুরু হয় কিন্তু রিহার্সাল শুরুর আগেই আর নতুন ভাবে কাজে নামতে পারলেন না ত্রিদিব। প্রবীণ এই শিল্পীর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই যাত্রা জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে|

১৯৭৫ সালে যাত্রাতে অভিনয় শুরু করেন। নাট্যচর্চায় হাতে খড়ি ‘‌রঙ্গপালী’‌ নামের এক গ্রুপ থিয়েটারে। নজরে পড়ে যান ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর সংস্পর্শে কিছুদিন কাজ করার পরে তাঁকে যাত্রায় আনেন অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৮০ সালে নাগ কোম্পানিতে ‘‌কাশ্মীরি কলি’‌ পালায়। একদা নায়ক ত্রিদিববাবু পরে খলনায়ক হিসাবে প্রভূত সুনাম পান। জীবিতকালে ‘পালা’, ‘মা বিক্রির মামলা’, ‘হাটে বাজারে’, ‘আজকের মির্জাফর’ , ‘ ভগবানের ছদ্দবেশে’, ‘ সম্রাট ঔরঙ্গজেব’, ‘কাল কেউটের ছোবল’, ‘ বুনো ওল বাঘা তেঁতুল’ এর মত যাত্রা উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। একদা নায়ক ত্রিদিববাবু পরে খলনায়ক হিসাবে প্রভূত সুনাম পান। ‘‌কালকেউটের ছোবল’‌, ‘‌নরকের হেডমাস্টার’‌, ‘‌কসাইখানা কান্ডারি’‌ এসব তাঁর সুপারহিট পালা। রাজু বড়ুয়া আর তাঁর জুটিতে ‘‌বুনো ওল বাঘা তেঁতুল’ও দু’‌বছর আগে যথেষ্ট সাফল্য পায়। যাত্রায় সেই তাঁর শেষ পুরো মরশুম কাজ করা।‌

বেশ কিছু বাংলা ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি। জীবিতকালে পশ্চিমবঙ্গে সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন একাধিক সম্মান।

বহু যাত্রামোদির কাছেই তিনি ছিলেন ‘‌স্বর্ণযুগ’‌-‌এর শেষ প্রতিনিধি। ত্রিদিববাবুর সঙ্গে যাত্রায় দীর্ঘদিন জুটি ছিল যাঁর, সেই তাপসী রায়চৌধুরি এদিন জানান, ওঁর সঙ্গে প্রথম অভিনয় ২৭ বছর আগে নট্ট কোম্পানিতে। ‘‌সম্রাট ঔরঙ্গজেব’‌ পালায়। উনি হতেন ঔরঙ্গজেব। আমি রোশেনারা। পরবর্তীতে দু’‌জনে মিলে যৌথভাবে দু‌টি যাত্রাদল খোলেন। যথাক্রমে নটরাজ অপেরা ও আনন্দভারতী অপেরা নামে। যাত্রার প্রবাদপ্রতিম পালা ‘‌নটী বিনোদিনী’‌র রিমেক করেন দু’‌জনে। তাতে গিরীশচন্দ্র হতেন ত্রিদিব ঘোষ।

মরদেহ আনা হয় যাত্রাপাড়া চিত্‍পুরে। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সোমবার প্রয়াত ত্রিদিব ঘোষকে শ্রদ্ধা জানাতে যান তাঁর বাড়ি,এছাড়া বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ শেষ শ্রদ্ধা জানান। মরদেহ আনা হয় যাত্রাপাড়া চিত্‍পুরে।  সেখানে বহু শিল্পী তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান. নিমতলা শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় .

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here