শাড়িতে আস্ত রামায়ণ, পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হলেন ফুলিয়ার বীরেন বসাক

0

রুপম রায়  ::: ফুলিয়ার গর্ব,  ফুলিয়ার কৃতি সন্তান শ্রী বীরেণ কুমার বসাক, তাঁত শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য (তাঁত শিল্পে) রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোভিন্দ এর হাত থেকে পদ্মশ্রী পুরস্কার গ্রহণ করছেন। মঙ্গলবার (০৯-১১-২০২১) রাইসিনা হিলসে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাত থেকে পদক গ্রহণ করেন বীরেন বাবু। শাড়িতে আস্ত রামায়ণ, পদ্ম-সম্মান বীরেনের| এর আগে নানা স্তরে পুরস্কৃত হলেও পদ্মশ্রী সম্মান মুকুটে ওঠায় তা জেলাকে যেমন গর্বিত করবে তেমনই তাঁতশিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন অনেকেই। ১৯৫১ সালে টাঙাইলে জন্ম তাঁর। বর্তমানে শান্তিপুর ব্লকের বেলগড়িয়া ১ পঞ্চায়েতের চটকাতলার বাসিন্দা বীরেন দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে। তাঁতের শাড়িতে নতুন ধরনের চিন্তা ভাবনা এবং নতুন আঙ্গিকে তাকে হাজির করানোর চেষ্টা করে গিয়েছেন বারবার। তাঁতের শাড়িতেই তিনি কখনও হাজির করেছেন রামায়ণ, কখনও গুহামানব থেকে আজকের আধুনিক সমাজের বিবর্তনের ইতিহাস। আবার বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে সচেতনতার বার্তাও ঠাঁই পেয়েছে সেখানে। রাষ্ট্রনায়ক থেকে মনীষী সকলেই প্রতিকৃতিই ফুটে উঠেছে নানা সময়ে তাঁর তৈরি শাড়িতে। আবার পরিবেশ রক্ষা থেকে সমাজ সচেতনতার বার্তাও উঠে এসেছে তাঁর তৈরি শাড়িতে।তাঁতের শাড়িকে এক অন্য আঙ্গিকে পরিবেশনের মাধ্যমে উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার স্বীকৃতি পেলেন এ বার।

ধীরেন এবং বীরেন, বসাক বাড়ির দুই সহোদর ভাইয়ের হাতে বাংলার কুটির শিল্পে নবজাগরণ। শুরুটা হয়েছিল পাঁচ দশকেরও আগে। নিজে হাতে শাড়ি বুনে মাথায় ফেরি করে শুরু হয়েছিল সফর, আজ সেই বসাক বাড়ির ছেলেই ভারতের ‘তাঁত সম্রাট’। সম্প্রতি পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হলেন ফুলিয়ার বীরেন বসাক।
ধীরেন এবং বীরেন, বসাক বাড়ির দুই সহোদর ভাইয়ের হাতে বাংলার কুটির শিল্পে নবজাগরণ। শুরুটা হয়েছিল পাঁচ দশকেরও আগে। নিজে হাতে শাড়ি বুনে মাথায় ফেরি করে শুরু হয়েছিল সফর, আজ সেই বসাক বাড়ির ছেলেই ভারতের ‘তাঁত সম্রাট’। সম্প্রতি পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হলেন ফুলিয়ার বীরেন বসাক। বীরেন কুমার বসাক এই খ্যাতিমান পোশাকের জটিলতা এবং নান্দনিকতা বোঝেন যারা বাজারে কাজ করা খুব কম ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। তদুপরি, তিনি পাঁচ দশক ধরে  ঐতিহ্যবাহী শাড়ি প্রস্তুতকারক হিসাবে ব্যবসা করছেন । এই মুহূর্তে তার 24 জন কর্মচারী এবং 5000 তাঁতি রয়েছে যাদের সাথে তিনি প্রতি মাসে 16000টি হাতে বোনা শাড়ি বিক্রি করেন। তিনি 2013 সালে কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের দ্বারা প্রদত্ত মর্যাদাপূর্ণ সন্তকবীর পুরস্কার জিতেছেন|  মুখ্যমন্ত্রী যেমন  মমতা ব্যানার্জী ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দল সাবেক ক্যাব সভাপতি সাবেক ক্যাপ্টেন ও বর্তমান বিসিসিআই চেয়ারপারসনের SouravGanguly , ধ্রুপদী সংগীতশিল্পী আমজাদ আলী খান , অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় বিভিন্ন প্রমুখ শাড়ি ।বীরেন বসাকের কথায়, “১৯৬২ সালে ২ জনকে নিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন আমার পরিবারের রয়েছেন ৫ হাজার তাঁতি। এঁদের মধ্যে ২০০০ জন মহিলা। বাকি ৩০০০ জন পুরুষ। প্রতিদিনই ওদের সঙ্গে কথা বলে কাজ করি। আমার কারিগররা জাতীয় পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছেন। আজ এই বিরল সম্মানে সম্মানিত হয়ে আমি খুশি’বীরেন বসাকের শ্রেষ্ঠ কাজের মধ্যে অন্যতম জামদানির নকশা। ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুনত্বের ছোঁয়ায় জামদানির যে রূপ তিনি দিয়েছেন, তা জগদ্বিখ্যাত।

বীরেনের কথায়, “তাঁত শিল্প এবং তাঁত শিল্পীদের জন্য এই ভাবেই কাজ করে যেতে চাই। বস্ত্র মন্ত্রক, তাঁত শিল্পী সবার থেকেই সহযোগিতা পেয়েছি। তাঁদের সবার কাছেই আমি কৃতজ্ঞ।” পদ্ম সম্মানে পরিবারের অন্যরাও নিজেদের খুশি গোপন রাখছেন না। বীরেন বসাকের ছেলে অভিনব বসাক বলছেন, “বাবার এই পুরষ্কার আমাদের পরিবার তথা তাঁতিদের কাছেও গর্বের। এই পুরস্কার বুঝিয়ে দিল একটা মানুষ কোনও সাধনার মধ্যে থাকলে এক দিন তাঁর পুরস্কার পাবেই।” শান্তিপুরের তাঁত বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অরুণ ঘোষ বলছেন, “বীরেনবাবুর এই সম্মানপ্রাপ্তি আমাদের সবাইকে গর্বিত করেছে। তাঁতশিল্পের আরও প্রসার ঘটবে এর ফলে।” দীর্ঘদিন ধরেই তাঁত শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ফুলিয়ার বাসিন্দা হরিপদ বসাক। তিনি বলেন, “তাঁত শিল্পের ক্ষেত্রে উনি একটা নতুন ধারা এনেছেন। জামদানির ক্ষেত্রে তো বটেই একটা অভিনবত্ব এনেছেন। তাতে রয়েছে শিল্পের ছোঁয়াও। এই ধরনের পুরষ্কার আগামী দিনে তাঁতশিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে। যদি আরও অনেকে নিজেদের শিল্পসত্তা নিয়ে এই শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আসেন তা হলে প্রসার হবে তাঁত শিল্পের।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here